বিদেশে উচ্চশিক্ষা : করোনা? নো প্রবলেম! এখনই সঠিক সময়

করোনা মহামারীর মাঝে স্টুডেন্ট ভিসা প্রাপ্তি সহজ হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত

0 969

বিশ্বজুড়ে চলছে করোনাভাইরাস মহামারী। ব্যবসা-বাণিজ্য, আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগ, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে পড়াশোনা সবক্ষেত্রে বিরাজ করছে এক ধরনের স্থবিরতা। বিশেষ করে যেসব ছেলেমেয়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চাইছেন তারা রয়েছেন এক ধরনের অনিশ্চয়তা, দুঃচিন্তার মধ্যে এই ভেবে যে চলমান মহামারীর মধ্যে তারা বিদেশে পছন্দের গন্তব্যে পড়াশোনার জন্য যেতে পারবেন তো। একটা কথা প্রচলিত আছে ‘এভরি ক্লাউড হ্যাজ অ্যা সিলভার লাইনিং’ অর্থাৎ প্রতিটি সংকট বা প্রতিকূল অবস্থার মাঝেও ইতিবাচক বা আশাব্যঞ্জক কিছু থাকে।

এ প্রেক্ষিতে যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বা মনস্থির করেছেন তাদের জন্য করোনা মহামারীর মধ্যেও সতিই ইতিবাচক দিকও রয়েছে। তা হলো চলমান মহামারীর মাঝেও বিশ্বের অনেক দেশই বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসাদান সহজ বা ভিসা সংক্রান্ত বিধিমালা শিথিল করেছে। এসব দেশের মধ্যে উদাহরণস্বরূপ যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানিসহ ইউরোপের অনেক দেশের নাম আনা যেতে পারে। দেশগুলো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের স্থবির অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখার স্বার্থে।

যুক্তরাজ্য অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে নতুন নিয়মে স্টুডেন্ট ভিসা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে দেশটি অস্ট্রেলিয়ার পথ অনুসরণ করে পয়েন্টভিত্তিক ভিসা প্রক্রিয়া চালু করেছে। এ নিয়মে যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসা পেতে কোনো শিক্ষার্থীকে ৭০ পয়েন্ট পেতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে যা পাওয়া খুবই সহজ। ৭০ পয়েন্টের মধ্যে অধিকাংশ অর্থাৎ ৫০ পয়েন্টই আসবে শিক্ষার্থী যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চাচ্ছে সেই প্রতিষ্ঠানে ভর্তির নিশ্চয়তাপত্র থেকে। অর্থাৎ শিক্ষার্থী তার পছন্দের প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির নিশ্চয়তাপত্র বা কাস রেফারেন্স নম্বর পেলেই ৫০ নম্বর লাভ করবেন। বাকি ২০ পয়েন্টের মধ্যে ১০ আসবে শিক্ষার্থীর আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ থেকে। আর অবশিষ্ট ১০ পয়েন্ট আসবে ইংরেজি ভাষায় সক্ষমতার প্রমাণ থেকে। এজন্য ব্রিটিশ পদ্ধতিতে ইংলিশ বি-২ বা এর সমমান লাগবে যা আইইএলটিএস ব্যান্ড স্কোর ৫.৫ থেকে ৬ এর সমান। এখানে লক্ষণীয়, আইইএলটিএস ব্যান্ড স্কোর ৪ থেকে ৫-এর মধ্যে হলেও স্টুডেন্ট ভিসা মিলবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে মূল কোর্সের সঙ্গে ইংলিশ লেভেল বি-১ কোর্সসহ আবেদন করতে হবে। মোটকথা নতুন নিয়মে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া এককথায় সহজ হয়েছে।

শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের পছন্দের শীর্ষে থাকা প্রায় সব দেশই স্টুডেন্ট ভিসা প্রদান সহজ করেছে। এতে স্টুডেন্ট ভিসা প্রাপ্তির হারও লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে বলে জানান দেশের শীর্ষস্থানীয় স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি ফার্ম বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কের ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সবিষয়ক ম্যানেজার মাহমুদা আকতার। তিনি জানান, করোনার মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের হার কমে যাওয়ায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো দেশের জন্য বরাদ্দ কোটা পূরণ করতে পারছে না। এ অবস্থায় যারাই আবেদন করছে যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে তারা সহজেই ভিসা পাচ্ছে। তাই যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক তাদের এখনই পছন্দের দেশ ও প্রতিষ্ঠান বাছাই করে আবেদনের উপযুক্ত সময় বলে অভিমত তার।

কনসালটেন্ট মাহমুদা আকতার আরও জানিয়েছেন, মহামারী শেষ হয়ে যাওয়ার পর ভিসা আবেদনে বড় ধরনের চাপ পড়বে। তখন ভিসা পাওয়া স্বাভাবিকভাবেই কঠিন হয়ে যাবে কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো দেশ থেকে তাদের জন্য বরাদ্দ সংখ্যার বেশি স্টুডেন্ট আনতে পারবে না। তখন প্রতিষ্ঠানগুলো ভর্তির অনুমতিপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই বাড়িয়ে দেবে। দেশগুলোও ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে পুরনো রূপে ফিরে যাবে অর্থাৎ ভিসা আবেদনের সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখেই তবে ভিসা প্রদান করবে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলো।

আরেকটা বিষয় না বললেই নয়, করোনার কারণে কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অন-ক্যাম্পাস পাঠদান ছেড়ে অনলাইন পাঠদান করছে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির অনুমতিপত্র দিয়ে অনলাইনে ক্লাস করার সুযোগ দিচ্ছে। অর্থাৎ যেহেতু করোনার কারণে বিশ্বের অনেক দেশেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বা যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে সে কারণে দেশে বসেই কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হয়ে অনলাইনে কোর্সের একটা অংশ শেষ করার সুযোগ রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসা নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠে অংশ নিতে পারবে।
কি পয়েন্টস :
১. করোনা মহামারীর মাঝে স্টুডেন্ট ভিসা প্রদান সহজ করেছে উন্নত দেশগুলো। তাই ভিসা প্রাপ্তি এখন অধিকতর সহজ।
২. ভিসা প্রাপ্তির হারও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি।
৩. অনেক শিক্ষার্থীই ঘরে অলস সময় কাটাচ্ছে। তাই পছন্দের দেশের পছন্দের কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে প্রাথমিকভাবে অনলাইনে ক্লাস করলেও সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। তাই অযথা সময়ের অপচয় না করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
৪. সময় নষ্ট নয় বরং সঠিক ব্যবহারেই মিলে সাফল্য। তাই অযথা সময়ের অপচয় না করে করোনাকালীন সময়ের সঠিক ব্যবহার জরুরি।

কনট্যাক্ট : করোনা মহামারীর মাঝেও যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবছে তারা এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে ফোন করতে পারেন এই নম্বরে : ০১৭২০-৫৫৭১০৬, ০১৭২০-৫৫৭১১৮, ০১৭২০-৫৫৭১০৭ (বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক)।
ভিজিট করতে পারেন এই ওয়েবসাইট : http://www.bsbbd.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.