যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা : শিক্ষার্থী পাঠানোয় শীর্ষে চীন, দ্বিতীয় ভারত

২০১৯-’২০ শিক্ষাবর্ষে ৮ হাজার ৮০০’র বেশি শিক্ষার্থী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ, বিশ্বে ১৭তম

0 136

যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীন। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটি চলতি ২০১৯-’২০ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় পৌনে তিন লাখ শিক্ষার্থী পাঠিয়েছে। শিক্ষার্থী পাঠানোয় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। একই ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭তম। ‘ওপেন ডুরস ২০২০’ নামে প্রতিবেদনটি ১৬ নভেম্বর প্রকাশিত হয়েছে। ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অব এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন (আইআইই) প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইউএস অ্যাম্বাসি ঢাকা

প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী পাঠানোর দিক দিয়ে বরাবরের মতোই শীর্ষে রয়েছে চীন। ২০১৯-’২০ শিক্ষাবর্ষে ২ লাখ ৭২ হাজারের বেশি চীনা শিক্ষার্থী দেশটির উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে আসা চীনা শিক্ষার্থীরা সংখ্যা প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে যা টানা ১৬ বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী পাঠানোর ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। দেশটি থেকে ওই শিক্ষাবর্ষে ১ লাখ ৯৩ হাজার ১২৪জন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য গেছে। তবে গত শিক্ষাবর্ষের তুলনায় এ সংখ্যা ৪.৪ শতাংশ কম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো এক শিক্ষাবর্ষে টানা পাঁচ বছর ধরে ১০ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী টানতে সক্ষম হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৯-’২০ শিক্ষাবর্ষে দেশটির বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৬ জন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। আগের শিক্ষাবর্ষের তুলনায় এ সংখ্যা শতকরা ১.৮ ভাগ কম। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এখনো সামগ্রিক শিক্ষার্থী সংখ্যার ৫.৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী পাঠানোর দিক দিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৭তম। গত বছরের তুলনায় এবার এক ধাপ উন্নতি করেছে দেশটি। বাংলাদেশ চলমান ২০১৯-’২০ শিক্ষাবর্ষে রেকর্ড আট হাজার আটশ’র বেশি শিক্ষার্থী পাঠিয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। শতকরা হিসাবে যা গত বছর অর্থাৎ ২০১৮-’১৯ শিক্ষাবর্ষের তুলনায় ৭.১ শতাংশ বেশি। গত শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে আট হাজার ২৪৯জন শিক্ষার্থী পাঠিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে যে সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে তার মধ্যে ৭৫ শতাংশের বেশি সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ম্যাথমেটিকস (এসটিইএম) বিষয়গুলোতে পড়াশোনা করছে। এর মধ্যে ৪১ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে, ১৯ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ম্যাথমেটিকস বা কম্পিউটার সায়েন্স এবং ১৫ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ফিজিক্যাল বা লাইফ সায়েন্স পড়াশোনা করছে। এছাড়া প্রায় ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী বিজনেস বা ম্যানেজমেন্ট এবং প্রায় ৬ শতাংশ সোশ্যাল সায়েন্সে তাদের উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে।

অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিশাল ভূমিকা রাখছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর দেশটির অর্থনীতিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবদান ছিল ৪৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে চীনা শিক্ষার্থীরা। আর দ্বিতীয় স্থানে ভারত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সংস্থা পিটিআই বলছে, গত বছর মার্কিন অর্থনীতিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অবদান ছিল ৭.৬৯ বিলিয়ন ডলার।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের এডুকেশনাল অ্যান্ড কালাচারাল অ্যাফেয়ার্সবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট ম্যারি রইস বিদেশি শিক্ষার্থীদেরকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য অতীতের যেকোনো সময়ের মতো আজও গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মহামারির পূর্বে পঞ্চম বছরের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ১০ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দেখে আমরা বেশ উজ্জীবিত। পড়াশোনা এবং ডিগ্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি শিক্ষার্থীদের সেরা গন্তব্য বলেও মন্তব্য করেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এ কর্মকর্তা।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.